//আহলান সাহলান মাহে রমাদান
মাহে রমজান

আহলান সাহলান মাহে রমাদান

‘আহলান সাহলান মাহে রমাদান।’

আবার এলো রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। ‘হে আল্লাহ, রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং রমাদান আমাদের নসিব করুন!’ এই প্রার্থনা কবুল হলো।

মাহে রমজান বরকতময় মাস। রমজান মাস হচ্ছে আরবি বারো মাসের মধ্যে নবম মাস। এটি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সম্মানিত মাস। কুরআন ও হাদিসের আলোকে এটি সম্মানিত মাস হওয়ার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: যখন রমাদান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়; শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারি, তৃতীয় খণ্ড হাদিস: ১,৭৭৮)।

কোরআন কারিমে এসেছে, ‘হে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের প্রতি “সিয়াম” ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য; যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৩)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সহিত সওয়াবের নিয়তে রমাদান মাসে সওম পালন করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, প্রথম খণ্ড হাদিস: ৩৭)। প্রিয় নবী (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সহিত সওয়াবের উদ্দেশ্যে রমাদান মাসে রাতে ইবাদত করবে, তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, প্রথম খণ্ড হাদিস: ৩৩-৩৬)। রমজান মাসে রয়েছে দয়াময়ের করুণার পরম পূর্ণতার মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর বা শবে কদর তথা মহিমাময় মহা মর্যাদাপূর্ণ সম্মানিত রাত। বিশ্বনবী রাসুলে আকরাম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সহিত সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে ইবাদতে অতিবাহিত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, প্রথম খণ্ড হাদিস: ৩৪)।

হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রোজা আমারই জন্য, আমিই এর বিনিময় প্রতিদান দেব।’ (বুখারি, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২২৬)।

রোজার সার্বিক গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়। ফলে মানুষ বিভিন্ন পাপাচার থেকে দূরে থেকে সৎ কাজের প্রতি ধাবিত হয়। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকের উচিত, রোজার এ মহান শিক্ষাকে উপলব্ধি করা। তাই রোজার প্রতি সবারই যত্নবান হওয়া অপরিহার্য। 

Spread the Love :
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •