//বায়তুশ শরফের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা আবদুল মোমেন রাহ.
মাওলানা আবদুল মোমেন রাহ.

বায়তুশ শরফের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা আবদুল মোমেন রাহ.

বায়তুশ শরফের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, বিশিষ্ঠ ওয়ায়েজ মাওলানা গাজী আবদুল মোমেন রাহ. ১৯৫২ সালে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানার বশির হাট গ্রামের গণি পাড়ায় তাঁর পৈত্রিক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাতকানিয়া রসুলাবাদ ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল, আলিম, ফাজিল এবং চন্দনপুরা দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসা হতে কৃতিত্বের সহিত কামিল পাশ করেন।

মাওলানা আবদুল মোমেন রাহ.

তিনি ১৯৭২ সালে বায়তুশ শরফ এর প্রধান রূপকার হাদীয়ে যামান হযরত আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার রাহ. এর তরিকতের দায়িত্বের প্রথম মাহফিলে ঈসালে সাওয়াব কুমিরাঘোনায় ১৬ জন তরুণ আলেমসহ পীর ছাহেব রাহ. এর হাতে বায়াত গ্রহণ করে মুরীদ হন।

তিনি শিক্ষাজীবন শেষ করে কুমিরাঘোনা আখতরুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠালগ্নে কিছুদিন অবৈতনিক শিক্ষক ছিলেন। তিনি কিছুদিন মুরাদপুর গণি সওদাগর মসজিদের খতীব ও মৃত্যুকাল পর্যন্ত বহদ্দার হাট বাস টার্মিনাল বায়তুশ শরফ মসজিদের খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দোহাজারী মসজিদ বায়তুশ শরফ প্রতিষ্ঠা তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার প্রসল। দেশে বহু সংখ্যক মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা প্রতিষ্ঠায় তাঁর উদ্ধুদ্ধকরণী ওয়াজ কার্যকর ছিল। তিনি শুধু পীর ছাহেব রাহ. এর পরিচিতি পেশ ও বায়তুশ শরফের প্রচারকই ছিলেন না। কিংবা নিছক অর্থে কোন পেশাদর ওয়াজী আলেম ছিলেন না, সারা বৎসরই তিনি ওয়াজ নসীহত করতেন। ইসলামকে এদেশে সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখতেন। নির্ভয়ে বাতিলের সমালোচনা করতেন। চন্দনাইশে এ ধরনের এক মাহফিল করলে বিরূদ্ধবাদীগণের গাত্রদাহ হয়। যার ফলে ওয়াজের পর তিনি শহরে ফেরার পথে রাতের অন্ধকারে বিরুদ্ধবাদীদের লাঠির আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে চৌচির হয়ে যায়। এরপর আলেম সমাজ তাঁকে “গাজী” উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি কোন কমার্শিয়াল বক্তা ছিলেন না। তিনি ছিলেন ইসলামী আদর্শের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু রয়ে গেছে তাঁর অসংখ্য স্মৃতি।

আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার রাহ.তাঁকে সফর সঙ্গী করেছেন পবিত্র হজ্বে, মধ্য প্রাচ্যের প্রায় সকল দেশে এবং লন্ডনে। এতে তাঁর প্রতি পীর ছাহেব রাহ. এর বিশেষ নেকনজরের প্রমান মেলে। প্রায়শঃ তিনি অনর্গল ইংরেজী বলতেন। বিদেশ সফরে পীর ছাহেব রাহ. এর সফর সঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য কয়জনের ভাগ্য জুটে। এতেই বোঝা যায় কত বড় মাপের দ্বীনদার ও আমলদার আলেম ছিলেন তিনি।

১৯৭২ সাল হতে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত পীর ছাহেব রাহ. এর সোহবত ও মহব্বত থেকে যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পেয়ে তিনি পরশ পথরের সংস্পর্শে সরস হয়েছিলেন তার প্রমাণ দেখতে পাই কুমিরাঘোনা মাহফিলে ঈসালে সাওয়াবের মোনাজাতের পূর্ব মুহূর্তে সুললিত কণ্ঠে পরিবেশিত নাতে রসূল পাঠে। মোনাজাতের জন্য অপেক্ষামান লক্ষাধিক মানুষকে তিনি নাতে রসূলের মোহনীয় সুর ও মর্মস্পর্শী চেতনার মাধ্যমে ছরকারে দোজাহানের মদীনা শরীফের রওজা মোবারকে নিয়ে শাফায়াতের আর্জি পেশ করিয়ে অফুরাণ মহব্বত মাখিয়ে আনতেন।

তার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি কে হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর পথে আহবান করে। ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত তিনি এই কাজটিই করেছেন। তিনি ২১ জুন ১৯৯৭ সালে বাঁশখালী থানার অন্তর্গত পালেগ্রামে এক সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে এর চারদিন পর ২৫ জুন ভোরে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ওইদিন চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। আল্লাহ তাঁকে শহীদি মর্যাদা দান করুন। আমীন।

Spread the Love :
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •